default-image

মাদারীপুরের অন্তর্গত কালকিনি বর্তমানে উপজেলা। জেলা সদর থেকে দক্ষিণে কালকিনির অবস্থান। নূরুল ইসলাম শিকদারসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা একদিন ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের একটি সেতু মাইন দিয়ে ধ্বংস করেন। সেতুটি ছিল কালকিনি-গোপালপুর অংশে। সেতু ধ্বংসের পর তাঁরা ফিরে যাচ্ছিলেন নিজেদের গোপন শিবিরে। কিন্তু তাঁদের দুর্ভাগ্য, তখন কাছাকাছি টহলে ছিল একদল পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার। তারা মাইন বিস্ফোরণের শব্দ শুনে দ্রুত এসে তাঁদের আক্রমণ করে। মুক্তিযোদ্ধারা সংখ্যায় ছিলেন কম। নূরুল ইসলাম শিকদারসহ দু-তিনজন ছাড়া বাকি সবাই স্বল্প প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গণবাহিনীর যোদ্ধা। তাঁদের কাছে আধুনিক অস্ত্রও তেমন ছিল না। অন্যদিকে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার মিলে তাদের সংখ্যা অনেক। সেনারা আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত। তার পরও মুক্তিযোদ্ধারা সাহসের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাদের মোকাবিলা করতে থাকেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে নূরুল ইসলাম শিকদার শহীদ এবং দু-তিনজন আহত হন। প্রচণ্ড আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এ সময় নূরুল ইসলাম শিকদারের সহযোদ্ধারা জীবন বাঁচাতে তাঁর মরদেহ ফেলেই পশ্চাদপসরণ করতে বাধ্য হন। পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকাররা তাঁর মরদেহ নিয়ে যায়। এ ঘটনা ১৯৭১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরে ঘটেছিল কালকিনিতে।

বিজ্ঞাপন

নূরুল ইসলাম শিকদার চাকরি করতেন ইপিআরে। ১৯৭১ সালে চাকরিরত ছিলেন ঢাকার পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তরে। ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র অবস্থায় পিলখানা ইপিআর হাসপাতালে দায়িত্বরত অবস্থায় তিনি আক্রান্ত হন। সেখান থেকে পালিয়ে নিজ এলাকায় এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। প্রথম দিকে তিনি আহত প্রতিরোধযোদ্ধাদের সেবা করেন। পরে তাঁদের সঙ্গে ভারতে চলে যান। জুলাইয়ের প্রথম দিকে ভারত থেকে স্বল্প প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকটি দল পাঠানো হয় মাদারীপুরে। একটি দলে নূরুল ইসলাম শিকদারকেও পাঠানো হয়। তাঁরা কালকিনি এলাকায় গোপন শিবির করে গেরিলা কায়দায় অপারেশন চালাতে থাকেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর যাতায়াতের পথে অ্যামবুশ পেতে আক্রমণ করে সরে পড়া, টেলিফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া, মাইন দিয়ে সড়কসেতু ধ্বংস করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার মতো অপারেশনই বেশি করতেন তাঁরা। এরই ধারাবাহিকতায় সেদিন তাঁরা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের একটি সেতু ধ্বংস করেন।