default-image

একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে সারা রাত জেগে থাকার ক্লান্তি। সব উপেক্ষা করে নূরুল ইসলাম বাংকারে বসে আছেন। তিনি একা নন, তাঁর সঙ্গে আছেন আরও অনেক মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের এই অপেক্ষা শত্রু পাকিস্তানি সেনাদের জন্য। এলাকাজুড়ে একটা থমথমে অবস্থা। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিশাল একটি দল মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে থাকা এলাকা পুনর্দখলের জন্য আক্রমণ শুরু করেছে। কয়েক দিন ধরে শুরু হয়েছে তাদের আর্টিলারির গোলাবর্ষণ। আগের রাতে পাকিস্তানি সেনারা নূরুল ইসলামদের অবস্থানে অবিরাম গোলাবর্ষণ করেছে, কিন্তু তাঁরা সেসব উপেক্ষা করে তাঁদের অবস্থান ধরে রেখেছেন।

সকাল হতেই দেখা গেল, শত শত পাকিস্তানি সেনা তাদের অবস্থানের দিকে এগিয়ে আসছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ১৫ ও ১৯ বালুচ রেজিমেন্ট, ২১ আজাদ কাশ্মীর রাইফেলস ও ইপিকাপের সমন্বয়ে গঠিত পাকিস্তানি বাহিনী। তারা তাদের কামান, মর্টার ও বিকোয়েললেস রাইফেল থেকে বৃষ্টির মতো গোলাবর্ষণ করছিল। তার মধ্যেই সাহসের সঙ্গে নূরুল ইসলাম ও তাঁর সহযোদ্ধারা যুদ্ধ করে যাচ্ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

তাঁদের পাল্টা আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পেছন দিকে সরে যায়। এমন সময় পাকিস্তানি সেনাদের একটি শেল এসে পড়ে নূরুল ইসলামের অবস্থানে। শেলের টুকরার আঘাতে তাঁর শরীর কুঁকড়ে যায়। পাশের বাংকার থেকে দুজন সহযোদ্ধা এসে তাঁকে নিয়ে যান একটু দূরে। আবার একটি মর্টার শেল আঘাত করে তাঁকে। তিনি শহীদ হন। তাঁকে সেখানেই মসজিদের পাশে কবর দেওয়া হয়।

এ ঘটনা ৮ জুন ১৯৭১ সালের। (এ তারিখ নিয়ে মতান্তর আছে।)

নূরুল ইসলাম পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭১ সালে এই রেজিমেন্টের অবস্থান ছিল যশোর সেনানিবাসে। মার্চে ছুটিতে বাড়িতে ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে যুদ্ধে যোগ দেন। ২ নম্বর সেক্টরের রাজনগর সাব-সেক্টরে যুদ্ধ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন