বিজ্ঞাপন
default-image

মুক্তিযুদ্ধের কয়েক বছর আগে বিয়ে করেছিলেন আলী আকবর। কৃষিকাজ করে সংসার চলছিল। মুজাহিদ বাহিনীর অনিয়মিত সদস্য হিসেবে প্রশিক্ষণও নেওয়া ছিল তাঁর।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আলী আকবর নিজেকে আর স্থির রাখতে পারলেন না। ২৬ মার্চেই যুদ্ধে যোগ দেন।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকায় অনেকের মুজাহিদ বাহিনীর প্রশিক্ষণ নেওয়া ছিল। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই আলী আকবরসহ প্রায় ৩০ জন মুজাহিদ স্থানীয় আবদুল কাদের চৌধুরীর নেতৃত্বে সংগঠিত হন। ২৫ মার্চের পর তাঁরা চৌদ্দগ্রাম বাজার, বাতিসা, ফালগুনকরাসহ একাধিক স্থানে বড় বড় গাছ কেটে রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করেন। পরে তাঁরা স্থানীয় থানা থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। থানা থেকে অস্ত্র সংগ্রহে আলী আকবর সাহসী ভূমিকা পালন করেন।

মে মাসের মাঝামাঝি তাঁরা চৌদ্দগ্রামে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সম্মুখযুদ্ধ করেন। এরপর আরও কয়েক দফা সেখানে যুদ্ধ হয়। বেশির ভাগ যুদ্ধই ছিল রক্তক্ষয়ী। কয়েক দিনের যুদ্ধে তাঁদের হাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ৩০-৩৫ জন নিহত ও অনেকে আহত হয়। মুক্তিবাহিনীর সাত-আটজন শহীদ হন। ৩০ মের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিপুল শক্তি নিয়ে তাঁদের ওপর আক্রমণ শুরু করলে তাঁরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যেতে বাধ্য হন। তাঁদের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। এরপর আলী আকবর ভারতে গিয়ে পুনঃসংগঠিত হন। পরে ২ নম্বর সেক্টরের অধীন রাজনগর সাবসেক্টরে যুদ্ধ করেন। বেশ কয়েকটি যুদ্ধে অংশ নেন। এর মধ্যে লাকসামের বাগমারা রেলসেতু ধ্বংসের অপারেশন অন্যতম। এই অপারেশনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পাল্টা আক্রমণে আলী আকবরের বেশ কয়েকজন সহযোদ্ধা শহীদ ও আহত হন। তিনি অল্পের জন্য বেঁচে যান।

অক্টোবর মাসের শেষে অথবা নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে কুমিল্লার মিয়াবাজার এলাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়াবহ এক যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে অংশ নেন আলী আকবর। প্রচণ্ড যুদ্ধে দুই পক্ষেরই বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর তীব্র আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এ সময় বাধ্য হয়ে তাঁরা পিছু হটেন। পিছু হটে ভারতে যাওয়ার সময় তাঁরা নোয়াবাজারে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অ্যামবুশে পড়েন। তখন তাঁদের কাছে তেমন গুলি-গোলা ছিল না। এই অবস্থায় তিনি ও আরেকজন সহযোদ্ধাদের বলেন নিরাপদ স্থানে চলে যেতে। তাঁরা দুজন পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণ মোকাবিলা করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁদের গুলি শেষ হয়ে যায়। তখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিতে তাঁরা শহীদ হন। পরে সহযোদ্ধারা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে গ্রামের বাড়িতে পাঠান।

সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১৩

সম্পাদক: মতিউর রহমান, সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান