default-image

সহযোদ্ধাদের সঙ্গে আবু ইউসুফ প্রতিরক্ষা অবস্থানে। সকাল হলেই তাঁরা রওনা হবেন ঢাকার দিকে। রাতে তাঁরা পালা করে ঘুমালেন। তখনো সকাল হয়নি, আবু ইউসুফের মনে হলো, জঙ্গলের ভেতর কেউ আছে। সহযোদ্ধাদের দ্রুত গোটা এলাকা ঘেরাও করার নির্দেশ দিলেন তিনি। কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে গেলেন জঙ্গলের দিকে। নিঃশব্দে জঙ্গলে ঢুকেই ভেতরে অনেক পাকিস্তানি সেনা দেখতে পেলেন। কেউ শুয়ে, কেউ বসে। আবু ইউসুফ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলেন, এদের আত্মসমর্পণ করাতে হবে। তাদের বুঝতে না দিয়ে প্রথমে নিজেদের নিরাপদ অবস্থান সংহত করলেন। তারপর অস্ত্র উঁচিয়ে চেঁচিয়ে বললেন, হ্যান্ডস আপ। হকচকিত পাকিস্তানি সেনারা সবাই হাত তুলে দাঁড়িয়ে গেল। তিনি নির্দেশ দিলেন আত্মসমর্পণের। পাকিস্তানি সেনারা আত্মসমর্পণ করতে থাকল। একজনকে দেখে আবু ইউসুফ চমকিত হলেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার আবদুল কাদের খান তাঁর হাতের মুঠোয়। তিনিও নীরবে তাঁদের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন। ১৪ ডিসেম্বর এ ঘটনা ঘটে গাজীপুরের মৌচাকে।

বিজ্ঞাপন

সামরিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ময়মনসিংহে অবস্থানরত পাকিস্তানি সেনারা ঢাকার দিকে রওনা হয়। ময়মনসিংহ থেকে টাঙ্গাইল হয়ে ব্রিগেডিয়ার আবদুল কাদের তাঁর বাহিনী নিয়ে উপস্থিত হন গাজীপুরের কালিয়াকৈরে। ১৩ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী মৌচাকের ঠেঙ্গার বান্দ্রের কাছে অবস্থান নেয়। মুক্তিবাহিনীর একটি দলের নেতৃত্বে ছিলেন আবু ইউসুফ। সেই রাতেই আবদুল কাদের খান তাঁর বাহিনীর একাংশ নিয়ে সেখানে পৌঁছান। ১৪ ডিসেম্বর সকালে তারা আবু ইউসুফের দলের হাতে বন্দী হয়।

আবু ইউসুফ চাকরি করতেন পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর প্রকৌশল শাখায়। ১৯৭১ সালে প্রেষণে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সেখান থেকে পালিয়ে লন্ডনে যান। ভারতে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন আগস্টে। প্রথমে যুদ্ধ করেন ৬ নম্বর সেক্টরের অধীনে। পরে ১১ নম্বর সেক্টরে। জামালপুরের কামালপুর (১৪-১৫ ও ২৭-২৮ নভেম্বর), বকশীগঞ্জ, জামালপুর যুদ্ধসহ কয়েকটি জায়গায় সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন। কামালপুর মুক্ত করার পর মিত্রবাহিনী (১ মারাঠা রেজিমেন্ট) ও মুক্তিবাহিনী জামালপুরের দিকে মার্চ করে। আবু ইউসুফ মিত্রবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার ক্লেয়ার ও কর্নেল ব্রারের সঙ্গে জামালপুরের যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর পক্ষে নেতৃত্ব দেন।

বিজ্ঞাপন