default-image

কয়েক দিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টি। এর মধ্যেই পাকিস্তানি সেনারা অবস্থান নিল সালদা নদী ও শশীদল রেলস্টেশনের পশ্চিম পাশে। কাছাকাছি এক জায়গায় অবস্থান করছিল মুক্তিবাহিনীর একটি দল। এ দলের নেতৃত্বে আবদুস সালাম। খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধারা দ্রুত এগিয়ে গেলেন শশীদল রেলস্টেশনের দিকে। পাকিস্তানি সেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি চালাতে শুরু করল। আবদুস সালামের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারাও সাহসের সঙ্গে শুরু করলেন পাল্টা আক্রমণ। মুক্তিযোদ্ধাদের রণকৌশলের কাছে হার মেনে পাকিস্তানি সেনারা পিছু হটল। আবদুস সালাম ধারণা করলেন, পাকিস্তানি সেনারা পালিয়ে গেছে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন। ওদিক থেকে কোনো সাড়াশব্দ নেই। তারপর যেই তিনিসহ কয়েকজন উঠে দাঁড়িয়েছেন, অমনি প্রচণ্ড গুলি ও মর্টারের গোলাবর্ষণ। আড়াল নেওয়ার সুযোগ পেলেন না আবদুস সালাম। এক ঝাঁক গুলি এসে লাগল তাঁর শরীরে। শহীদ হলেন সাহসী আবদুস সালাম।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনা ১৯৭১ সালের ৫ আগস্টের। সালদা নদী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার অন্তর্গত। মুক্তিযুদ্ধের সময় সালদা নদী এলাকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ এক রণাঙ্গন। এখানে অসংখ্য যুদ্ধ সংঘটিত হয়। পাকিস্তানি সেনারা কয়েক দিন পর পর এই এলাকায় এসে অবস্থান নিত। মুক্তিবাহিনী তাদের আক্রমণ করে হটিয়ে দিত। এরই ধারাবাহিকতায় সেদিন আবদুস সালাম তাঁর দলবল নিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণ করেন।

আবদুস সালাম পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। ১৯৭১ সালে কর্মরত ছিলেন চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। ফেব্রুয়ারি থেকে দুই মাসের ছুটিতে ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে যুদ্ধে যোগ দেন। প্রথমে নিজ এলাকায় সংঘটিত প্রতিরোধযুদ্ধে অংশ নেন। পরে ভারতে গিয়ে চতুর্থ বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে যোগ দেন। যুদ্ধ করেন ২ নম্বর সেক্টরের সালদা নদী এলাকায়। শহীদ হওয়ার আগে বেশ কটি যুদ্ধে অংশ নেন।

কসবার কৈখোলায় ছিল মুক্তিবাহিনীর একটি প্রতিরক্ষা অবস্থান। ১৮ জুন বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি সেনার একটি দল ওই প্রতিরক্ষা অবস্থানে আক্রমণ করে। প্রচণ্ড আক্রমণের মুখে মুক্তিযোদ্ধারা সেখান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হন। পাকিস্তানি সেনারা কৈখোলা দখল করার পর সেখানে অবস্থান নেয়। পরদিন ভোরেই নিয়মিত মুক্তিবাহিনীর একটি কোম্পানি (চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট) পাকিস্তানি সেনাদের পাল্টা আক্রমণ করে। একটি উপদলে ছিলেন আবদুস সালাম। তিনি তাঁর দলের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে শিবপুরের দিক দিয়ে পাকিস্তানি অবস্থানের একদম ভেতরে ঢুকে পড়েন। এতে পাকিস্তানি সেনারা হতভম্ব হয়ে পড়ে। তিনি ঝোড়োগতিতে পাকিস্তানি অবস্থানে ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেন। তাঁদের দুঃসাহসী আক্রমণে বিপর্যস্ত পাকিস্তানি সেনারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এ যুদ্ধে ৩১ জন পাকিস্তানি সেনা হতাহত হয়।

বিজ্ঞাপন