default-image

বড়খাতা লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার অন্তর্গত একটি ইউনিয়ন। এর পশ্চিম দিকে তিস্তা নদী আর পূর্ব দিকে ভারত সীমান্ত। পাটগ্রাম থেকে রেল ও সড়কপথ বড়খাতা হয়ে লালমনিরহাট পর্যন্ত বিস্তৃত। বড়খাতা অংশে আছে রেলসেতু। মুক্তিযুদ্ধের সময় সেতুটি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ কারণে সেতুটি রক্ষায় তারা নিয়মিত সেনা, ইপিসিএএফ ও রাজাকারদের সমন্বয়ে এক কোম্পানির বেশি সদস্য নিয়োগ করে।

মুক্তিযোদ্ধারা কয়েকবার চেষ্টা করেও ওই সেতু ধ্বংস করতে পারেননি। একপর্যায়ে সেতুটি ধ্বংসের দায়িত্ব পড়ে ৬ নম্বর সেক্টরের পাটগ্রাম সাব-সেক্টরের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন মতিউর রহমানের (বীর বিক্রম) ওপর। এই অপারেশনের জন্য তিনি অন্যদের পাশাপাশি আবদুল মালেক চৌধুরীর কোম্পানিকেও সঙ্গে নেন। অপারেশনের তারিখ ছিল ৮ আগস্ট। সেদিন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। গভীর রাতে মুক্তিযোদ্ধারা সেতুতে বিস্ফোরক সংযুক্ত করেন। বৃষ্টির মধ্যেই তাঁরা ডেটোনেটরে আগুন ধরান।

বিজ্ঞাপন

রাত পৌনে দুইটার দিকে প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ ঘটল। মনে হলো, আকাশ ভেঙে অবিরাম বজ্রপাত হচ্ছে। তিস্তা নদীতে টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়তে লাগল সেতুর অবকাঠামো ও নদীতীরের বাংকার। প্রাণভয়ে পাকিস্তানি সেনা, ইপিসিএএফ ও রাজাকাররা ছোটাছুটি শুরু করছে। তখন আবদুল মালেক চৌধুরী ও লেফটেন্যান্ট মেজবাহউদ্দীন আহমেদ বীর বিক্রম তাঁদের অধীন কোম্পানির মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আক্রমণ করলেন। হতাহত হলো বেশ কজন পাকিস্তানি সেনা ও তাদের সহযোগী। পাকিস্তানি সেনারা পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। ১৫ জনের লাশ ফেলে তারা পালিয়ে যায়। সেদিনের পর মুক্ত হয় তিস্তার পূর্ব দিকের এলাকা।

আবদুল মালেক চৌধুরী ১৯৭১ সালে রংপুর ইপিআর উইংয়ের অধীনে পাটগ্রাম সীমান্তে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যুদ্ধে যোগ দেন। তাঁর কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন সুবেদার বোরহানউদ্দীন। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিরোধযুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর তিনি পাটগ্রামে অবস্থান নেন। পরে সেক্টর ও সাব-সেক্টর গঠিত হলে তাঁকে ইপিআর ও গণবাহিনীর যোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত মুক্তিবাহিনীর একটি কোম্পানির কমান্ডার করা হয়। তিনি মোগলহাট, ভূরুঙ্গামারী, পাটেশ্বরী, কাকিনাসহ কয়েকটি জায়গায় যুদ্ধ করেন। তিনি প্রথমে সাহেবগঞ্জ সাব-সেক্টর এবং পরে পাটগ্রাম সাব-সেক্টরের অধীনে ছিলেন।

আবদুল মালেক চৌধুরী ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত বিডিআরে চাকরি করেন।

বিজ্ঞাপন