default-image

চা-বাগানের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া নির্জন একটি রাস্তা। এ রাস্তায় নিয়মিত টহল দেয় পাকিস্তানি সেনারা। আবদুল খালেকসহ একদল মুক্তিযোদ্ধা একদিন অবস্থান নেন ওই চা-বাগানের বিভিন্ন সুবিধাজনক স্থানে। সংখ্যায় তাঁরা মাত্র কয়েকজন। ওত পেতে বসে থাকেন পাকিস্তানি সেনাদের অপেক্ষায়। সময় গড়াতে থাকে। একসময় সেখানে হাজির হয় পাকিস্তানি সেনাদের বহনকারী কয়েকটি টহল গাড়ি। তাদের দেখামাত্র একসঙ্গে গর্জে ওঠে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র। হতাহত হয় বেশ কজন পাকিস্তানি সেনা। আকস্মিক আক্রমণে হকচকিত পাকিস্তানি সেনারা কয়েক মিনিটের মধ্যে নিজেদের সামলে নিয়ে শুরু করে পাল্টা আক্রমণ। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ।

পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধ করতে থাকেন আবদুল খালেক ও তাঁর সহযোদ্ধারা। মুক্তিযোদ্ধাদের বেশির ভাগ ছিলেন নিরাপদ অবস্থানে। সে জন্য পাকিস্তানি সেনাদের গুলি তাঁদের তেমন ক্ষতি করতে পারেনি। অন্যদিকে তাঁদের গুলিতে একের পর এক মাটিতে ঢলে পড়ে পাকিস্তানি সেনা। এ সময় আবদুল খালেক আনন্দে নিজেদের নিরাপদ অবস্থান থেকে সরে আরেকটু সামনে অবস্থান নেন। তাঁর অস্ত্রের গুলিতে হতাহত হয় আরও কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা। শত্রু নিধনে তিনি রীতিমতো উন্মত্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে তিনি আরও এগিয়ে যান। তখনই ঘটে বিপত্তি। পাকিস্তানি সেনাদের কয়েকটি গুলি এসে লাগে তাঁর শরীরে। শহীদ হন আবদুল খালেক।

বিজ্ঞাপন

১৯৭১ সালের মে মাসের শেষ দিকে (৯ জ্যৈষ্ঠ) নলুয়া চা-বাগানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর এই যুদ্ধ হয়। হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়া ও চুনারুঘাটের মাঝামাঝি নলুয়া চা-বাগান। চুনারুঘাট উপজেলার অন্তর্গত এলাকা এটি। হবিগঞ্জ শহর থেকে দূরে এই চা-বাগানের ভেতর দিয়ে চলে গেছে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক। শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কয়েক মাইল আগে নলুয়া চা-বাগানের রাস্তাটি এক গিরিখাদ বেষ্টন করে চলে গেছে। সেখানেই অবস্থান নিয়েছিলেন মুক্তিবাহিনীর আবদুল খালেক ও তাঁর সহযোদ্ধারা। সুবিধাজনক অবস্থান নেওয়ার কারণে তাঁরা পাকিস্তানি সেনাদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম হন। এ যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর শুধু আবদুল খালেক শহীদ হন।

১৯৭১ সালে আবদুল খালেক কৃষিশ্রমিক ছিলেন। মুজাহিদ বাহিনীর প্রশিক্ষণ ছিল তাঁর। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে প্রতিরোধযুদ্ধে যোগ দেন। নিয়মিত মুক্তিবাহিনীর দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট তেলিয়াপাড়ায় অবস্থান নিলে তিনি তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। তাঁকে ক্যাপ্টেন মতিউর রহমানের নেতৃত্বাধীন কোম্পানিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন