default-image

সকাল হতেই বেজে উঠল যুদ্ধের দামামা। প্রতিরোধযোদ্ধাদের অবস্থানের আশপাশে বৃষ্টির মতো পড়তে লাগল পাকিস্তানি সেনাদের নিক্ষিপ্ত গোলা। প্রতিরোধযোদ্ধাদের একজন আতাহার আলী মল্লিক। তাঁরা ঘাপটি মেরে আছেন। পাল্টা জবাব না দেওয়ায় পাকিস্তানি সেনারা দ্রুত এগিয়ে আসতে লাগল। মুক্তিযোদ্ধারা এটাই চাইছিলেন। পাকিস্তানি সেনারা আওতার মধ্যে আসতেই তাঁদের অস্ত্রগুলো একসঙ্গে গর্জে উঠল। সেই সঙ্গে চলল গ্রেনেড ও মর্টার চার্জ। গোলাগুলির অব্যর্থ আঘাতে নিহত হলো বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা। তীব্র গোলাগুলি ও ঘটনার আকস্মিকতায় অন্য পাকিস্তানি সেনারা পালিয়ে গেল।

প্রতিরোধযোদ্ধাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলো না। ফলে বিজয়ের আনন্দে উত্ফুল্ল তাঁরা। কিন্তু ব্যাপারটি ছিল একেবারেই সাময়িক। কেননা, যেকোনো সময় পাকিস্তানি সেনারা তাঁদের ওপর আক্রমণ চালাতে পারে। তাই তাঁরা চলে গেলেন নিজ নিজ অবস্থানে। ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে যেতে থাকে। এভাবে দুপুর-বিকেল গড়িয়ে গেল। পাকিস্তানি সেনাদের আর দেখা নেই। প্রতিরোধযোদ্ধারা ভাবলেন, আজ হয়তো তারা আসবে না।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু তাঁদের এ ধারণা ছিল ভুল। সন্ধ্যায় আবার পাকিস্তানি সেনাদের আকস্মিক আক্রমণ। এবার তারা এল বিপুল শক্তি নিয়ে। অন্ধকারে শুরু হলো প্রচণ্ড যুদ্ধ। একটু পর পর জ্বলে উঠছে ট্রেসারের উজ্জ্বল আলো। সেই আলোয় পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে সবকিছু। এবার মুক্তিযোদ্ধারা কিছুটা কোণঠাসা। হঠাত্ পাকিস্তানি শেলের স্প্লিন্টারের আঘাতে শহীদ হলেন আতাহার আলী মল্লিক। আহত হলেন আরও অনেকে। প্রতিরোধযোদ্ধাদের মধ্যে ক্রমেই হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় তাঁরা পিছু হটলেন। সহযোদ্ধাদের লাশ তাঁরা সঙ্গে নিতে পারলেন না। পাকিস্তানি সেনারা ওই এলাকা থেকে চলে যাওয়ার পর কয়েকজন যোদ্ধা সঙ্গীদের লাশ খুঁজতে যান, কিন্তু তাঁরা লাশ পেলেন না।

১৯৭১ সালের ২ এপ্রিলের ঘটনা এটি। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে রংপুর ইপিআর উইংয়ের বাঙালি ইপিআর সেনারা বিদ্রোহ করেন। ইপিআরের বি কোম্পানি তিস্তা নদীর সেতুতে ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান নেয় কুড়িগ্রাম প্রান্তে। তাদের লক্ষ্য ছিল রংপুর সেনানিবাস থেকে অগ্রসরমাণ পাকিস্তানি সেনাদের বাধা দেওয়া। ১ এপ্রিল সেখানে প্রথম যুদ্ধ হয়।

আতাহার আলী মল্লিক ১৯৭১ সালে কর্মরত ছিলেন চিলমারী বিওপিতে। ২৮ মার্চ তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।

বিজ্ঞাপন