default-image

১৯৭১ সালে আজিজুল হকের মা-বাবা ও স্ত্রী জানতেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছেন। সুবেদার লুত্ফর রহমানের নেতৃত্বাধীন মুক্তিবাহিনীর দলে আছেন। কিন্তু তাঁরা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জানতেন না, তিনি সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। জানলেন দেশ স্বাধীন হওয়ার পর। সহযোদ্ধারা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করতে পারেননি। পরিবারের সদস্যরা তাঁর কবর খুঁজে পাননি।

১৯৭৩ সালের গেজেটে খেতাবপ্রাপ্ত বেশির ভাগ মুক্তিযোদ্ধার ঠিকানা ছিল না। ২০০৪ সালে সরকার ঠিকানাসংবলিত নতুন গেজেট প্রকাশ করে। তখন ৬৬ জন খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওই তালিকায় ছিলেন আজিজুল হক।

মুজাহিদ বাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আজিজুল হক কৃষিকাজ করতেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি এতে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে লুত্ফর রহমান নিজের চেষ্টায় নোয়াখালীতে আলাদা একটি বাহিনী গঠন করেন। লুত্ফর রহমান ছিলেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সুবেদার। মার্চে ছুটিতে বাড়িতে ছিলেন। আজিজুল হক তাঁর সঙ্গে যোগ দেন। লুত্ফর রহমানের বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশের ভেতরে থেকেই নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ করেন। বগাদিয়ায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লুত্ফর রহমানের বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা কয়েকবার সম্মুখযুদ্ধে লিপ্ত হন। এর কোনো এক যুদ্ধে আজিজুল হক শহীদ হন।

বিজ্ঞাপন

সোনাইমুড়ী উপজেলার দক্ষিণে বগাদিয়া। মুক্তিযুদ্ধের সময় বগাদিয়া মুক্তিবাহিনী ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বগাদিয়া সেতুর নিচ দিয়ে নৌকায় করে মুক্তিযোদ্ধারা কানকিরহাট হয়ে ভারতে যাওয়া-আসা করতেন। সে জন্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বগাদিয়ার ওপর কড়া নজর রাখত। মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাদের কড়া নজর উপেক্ষা করে কয়েকবার ওই সেতু ধ্বংস করেন এবং বেশ কয়েকবার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর টহল দলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হন। বেশির ভাগ যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীই ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। দু-তিনবার মুক্তিযোদ্ধাদেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়।