default-image

বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ২৫ সেপ্টেম্বর স্বাধীন বাংলা বেতারে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীকে নৌ ও বিমান দিয়ে সাজানো হচ্ছে। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে এ ভাষণে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও চালনা বন্দরে মুক্তিবাহিনীর নৌ শাখা ইতিমধ্যে অনেকগুলো জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে।

মুক্তিসংগ্রামের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে মুক্তিবাহিনীর প্রধান কর্নেল এম এ জি ওসমানীও এই দিন রাতে স্বাধীন বাংলা বেতারে ভাষণ দেন।

মুজিবনগরে বাংলাদেশ সরকারের একজন মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেন, জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল ২৮টি ঘটনার তথ্য পেশ করবে। ১৯৬৯ সালের মার্চ থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের ঘটনাবলির তথ্য তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া এসব তথ্য নিয়ে বাংলাদেশ নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেছে সরকার।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদল এ দিন নিউইয়র্কে পৌঁছায়। পাকিস্তানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক থাকার কারণে প্রকাশ্যে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদের অভ্যর্থনা জানানো হয়নি।

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানি অনুগত মন্ত্রী আহত

পাকিস্তানি অনুগত গভর্নর ডা. আবদুল মোত্তালিব মালিকের মন্ত্রিসভার মন্ত্রী মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক এই দিন ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের ছোড়া টাইমবোমা বিস্ফোরণে আহত হন। লালবাগে নেজামে ইসলামীর কর্মিসভা থেকে তিনি সচিবালয়ে ফিরছিলেন। মোহাম্মদ ইসহাকের গাড়ি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের রাস্তা অতিক্রম করার সময় একটি মোটরসাইকেলে করে এনায়েত ও আবুল নামে দুজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা চলন্ত গাড়ির খোলা জানালা দিয়ে বোমা ছোড়েন। বোমায় ওই গাড়ির চালকও আহত হন।

১ নম্বর সেক্টরের একদল গেরিলা ফেনীর পরশুরামের গুতুমায় অ্যামবুশ করলে পাকিস্তানি বাহিনীর তিনজন হতাহত হয়। এই সেক্টরের আরেক দল মুক্তিযোদ্ধা চম্পকনগর সীমান্তঘাঁটিতে রকেট লাঞ্চার দিয়ে আক্রমণ করলে পাকিস্তানি বাহিনীর কয়েকজন হতাহত হয়।

অবরুদ্ধ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ দিন পাকিস্তান অবজারভার পত্রিকার খবর উদ্ধৃত করে জানায়, আটক আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা ২১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি অনুগত গভর্নর ডা. আবদুল মোত্তালিব মালিকের সঙ্গে তাঁর বাসভবনে দেখা করেন। শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তার করার পর এই প্রথম কোনো সংবাদপত্রে তাঁর সম্পর্কে কোনো খবর প্রকাশিত হলো। এর আগে গুজব রটেছিল, ফজিলাতুন্নেছাকে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কারণ, বাংলাদেশের গেরিলারা তাঁকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়ার শঙ্কা ছিল।

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল হরবার্ট ড্যানিয়েল স্পিভাক পাকিস্তানি অনুগত মন্ত্রিসভার মন্ত্রী এবং জামায়াত নেতা আব্বাস আলী খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব সুলতান মোহাম্মদ জাতিসংঘ মহাসচিব উ থান্টের কাছে এক পত্রে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে ভারতের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ করে বলেন, জাতিসংঘের কিছু সদস্যরাষ্ট্র জাতিসংঘ বিধির প্রতি সমর্থনের কথা বলে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিপন্ন করে তুলেছে।

পাকিস্তানের করাচিতে একজন সরকারি মুখপাত্র জানান, পূর্ব পাকিস্তানের অবস্থা সম্পর্কে ভারতীয় প্রচারণার বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীর সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার জন্য পাকিস্তানের যেসব প্রতিনিধি বিদেশ সফর করছেন, তাঁদের মধ্যে ইত্তেফাক-এর সাংবাদিক খন্দকার আবদুল হামিদ রয়েছেন।

সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র, খণ্ড দশ; ইত্তেফাকদৈনিক পাকিস্তান, ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭১; আনন্দবাজার পত্রিকাযুগান্তর, কলকাতা, ভারত, ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭১

গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান

বিজ্ঞাপন