default-image

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক বিভাগের সভাপতি জে ডব্লিউ ফুলব্রাইট একাত্তরের এই দিনে বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশ) ব্যাপারে নীরব থাকা মানে পাকিস্তানি বর্বরতাকে সমর্থন করা। পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জন রোডের চিঠির বিষয়বস্তু প্রকাশ করে তিনি এ কথা বলেন। জন রোড চিঠিতে লিখেছেন, পাকিস্তানিরা জংলি আইন চালাচ্ছে পূর্ব পাকিস্তানে। তারা হাজার হাজার নিরস্ত্র মানুষকে খুন করছে। খুন করছে বুদ্ধিজীবীদের। ধ্বংস করছে হিন্দুদের।

রোড তাঁর চিঠি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে পেশ করলেও তা গোপন রাখা হয়েছিল। বিষয়টি উল্লেখ করে সিনেটর ফুলব্রাইট বলেন, পাকিস্তানি বর্বরতার নিন্দা না করে এবং এসব তথ্য গোপন রেখে পররাষ্ট্র দপ্তর কার্যত ঘটনাগুলো সমর্থন বা অনুমোদন করেছে।

পাকিস্তানকে সাহায্যদান অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান ব্রিটেনের বিরোধী দলের নেতা হ্যারল্ড উইলসনের পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি ফ্রাংক জাড। এ বিষয়ে তিনি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার অ্যালেক ডগলাস হোমকে চিঠি দেন।

বিজ্ঞাপন

তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র প্রাভদা পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনায় এ অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান শান্তি হ্রাসে উদ্বেগ জানায়। প্রাভদা লেখে, গৃহীত সামরিক পদক্ষেপ পাকিস্তানের স্বার্থের পক্ষে হানিকর হবে। পরিস্থিতি ভারতসহ পুরো এশিয়ার, এমনকি সারা বিশ্বের শান্তির জন্যই বিপজ্জনক। ঢাকা এবং কলকাতায় ভারত ও পাকিস্তানের মিশন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় মিশনের লোকদের রুশ বিমানে নিজ নিজ দেশে সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সোভিয়েত ইউনিয়নের দেওয়া প্রস্তাব দুই দেশ মেনে নেয়।

এই দিনে ব্রিটিশ সাহায্য সংস্থা অক্সফাম এবং ওয়ার অন ওয়ান্ট ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের শরণার্থীদের খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের জন্য অর্থ সাহায্যের আবেদন জানায়।

ব্রিটেনের উস্টারশায়ারে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে প্রবাসী বাঙালিরা আবার বিক্ষোভ করেন। খেলা শুরু হলে প্রায় ৫০০ বাঙালি সেখানে সমবেত হয়ে ‘বাংলাদেশকে স্বীকার করে নাও’, ‘খুনিরা ফিরে যাও’ স্লোগান দেন।

ভারতে ও পাকিস্তানে

ভারতের এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় এ দিন জানায়, স্বাধীনতাসংগ্রামের জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বিঘ্নিত হয়েছে, এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাইলে তাঁদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষককে অতিথি শিক্ষক হিসেবে সেখানে সাময়িকভাবে চাকরি দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পাকিস্তানের তথ্য দপ্তর জানায়, সরকার কিছু নির্বাচিত সাংবাদিককে পূর্ব পাকিস্তানে যাওয়ার অনুমতি দেবে। তবে যাঁদের পূর্ব পাকিস্তান থেকে এর আগে বের করে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের এ অনুমতি দেওয়া হবে না।

পাকিস্তানি সেনারা এই দিনও ভারতের বিভিন্ন স্থানে গুলি করে ও গোলাবর্ষণ করে। তাদের গোলায় পশ্চিম দিনাজপুরে রাধিকাপুর রেলস্টেশনের ক্ষতি হয়। এ ছাড়া একজন শরণার্থী নিহত ও ছয়জন ভারতীয় আহত হয়।

কুমিল্লার লাকসামের বগাদিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের অ্যামবুশে সেতু ধ্বংস হয় এবং পাকিস্তানি সেনাদের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: সেক্টরভিত্তিক ইতিহাস, সেক্টর এক ও দুই; দৈনিক পাকিস্তান, পূর্বদেশআনন্দবাজার পত্রিকা, ২ মে ১৯৭১।

গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান

বিজ্ঞাপন