default-image

যুক্তরাষ্ট্রের ১০ জন সিনেটর ২৫ এপ্রিল এক যুক্ত বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, পাকিস্তান সরকার পূর্ব বাংলার জন্য আপৎকালীন ত্রাণকাজের ব্যবস্থা করেনি। আন্তর্জাতিক রেডক্রসকেও সেখানে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে পাশ্চাত্য দেশগুলো ও জাতিসংঘের উচিত হবে পাকিস্তানে বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ করে দেওয়া। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ওয়াল্টার মন্ডেল, এডওয়ার্ড মাস্কি, হিউবার্ট হামফ্রে, বার্চ বে, জর্জ ম্যাকগভার্ন, ফ্রেড হ্যারিস, হ্যারল্ড হিউস, উইলিয়াম পক্সমায়ার, টমাস এগ্রেটন ও ক্লিফোর্ড কেস।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানের বিশেষ দূত হিসেবে তাঁর সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়া আরশাদ হোসেন এই দিন মস্কো যাত্রা করেন। তিনি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতাদের জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার বার্তা নিয়ে যান।

অবরুদ্ধ বাংলাদেশে

পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষ খ অঞ্চলকে (বাংলাদেশ) তিনটি সামরিক সেক্টর এবং ১০টি সাব-সেক্টরে ভাগ করে। সেক্টর তিনটি হচ্ছে ঢাকা, কুমিল্লা ও বগুড়া। কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি তাদের উদ্দেশ্য সফল করার জন্য জেলা ও মহকুমা সদরে শান্তি কমিটি গঠন করতে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধিদের পাঠানোর ঘোষণা দেয়। রাজশাহীতে জামায়াতে ইসলামীর নেতা আফাজউদ্দিনকে আহ্বায়ক করে জেলা শান্তি কমিটি গঠিত হয়।

পাকিস্তানের জঙ্গি বিমান এই দিন বরিশালের ওপর অনবরত বোমাবর্ষণ করে। হেলিকপ্টারে করে সেখানে তারা ছত্রীসেনা নামায়। এ ছাড়া পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তিনটি দল বরিশালের তিন দিক থেকে আক্রমণ চালায়। একটি দল মুলাদীর দিক থেকে বরিশালের দিকে এগোয়। অন্য দুটি দল খুলনা ও ফরিদপুর থেকে অগ্রসর হয়। বরিশাল শহরের কয়েক মাইল উত্তরে জুনাহার নামে একটি জায়গায় মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় দুই পক্ষে প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধারা তাদের প্রতিরোধ করতে সফল হননি। পাকিস্তানি সেনারা অবশেষে এই দিন বরিশাল শহর দখল করে।

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তান সেনাবাহিনী এই দিন গোপালগঞ্জ শহরেও প্রবেশ করে। পাকিস্তানের সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াহিদুজ্জামান এবং তাঁর সহযোগীদের সহায়তায় তারা গোপালগঞ্জের খেলার মাঠ (বর্তমানে স্টেডিয়াম), ঈদগাহ মাঠ ও কলেজে শিবির স্থাপন করে।

পাবনার কাশিনাথপুর ও উল্লাপাড়ার ঘাটনা সেতুতে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ হয়। মুক্তিযোদ্ধারা দুই স্থানেই পাকিস্তানিদের প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। কিন্তু চেষ্টা সফল হয়নি।

পাকিস্তানি বাহিনী নওগাঁর তিলকপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গড়ের হাটে আক্রমণ করে এবং এখানে ১৩ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। তারা কুমরিয়া, জাফরাবাজ, লক্ষণপুর, মোহনপুর, হাপানিয়া, একডালা ও মাধাইমুরী গ্রামে আক্রমণ চালায়। কুমরিয়া, জাফরাবাজ ও মোহনপুরে ১১ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে তারা। এ ছাড়া কয়েকটি গ্রাম জ্বালিয়ে ভস্মীভূত করে দেয়।

দিনাজপুর-রাধিকাপুর সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি দলের সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর একটি দলের যুদ্ধ হয়।

চট্টগ্রামের করেরহাটে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সংঘর্ষ হয়। তুমুল যুদ্ধে করেরহাট প্রতিরক্ষাব্যূহের পতন হলে মুক্তিবাহিনী রামগড়ে গিয়ে অবস্থান নেয়।

সিলেটের গোলাপগঞ্জেও মুক্তিবাহিনী ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: সেক্টরভিত্তিক ইতিহাস, সেক্টর এক, সাত ও নয়; দৈনিক পাকিস্তানপূর্বদেশ, ২৬ এপ্রিল ১৯৭১
গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান