খবর
মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম তুলতে মন্ত্রী মেননের চিঠি
মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নিজের, স্ত্রী লুৎফুন্নেসা খানের নামসহ নরসিংদীর শিবপুরের দেড় শ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে চিঠি দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। মন্ত্রণালয়ের প্যাডে পাঠানো এক আধা সরকারি পত্রে (ডিও লেটার) মন্ত্রী জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অধিকাংশের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলেও অনেকের নাম বাদ পড়ে যায়। যার মধ্যে তিনি, তাঁর স্ত্রী এবং সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনো ও তাঁর ছোট ভাই হায়দার আনোয়ার খান জুনোও আছেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর মাধ্যমে এ চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের দলসহ কতিপয় বামপন্থী দল “জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ সমন্বয় কমিটি” গঠন করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। মাওলানা ভাসানীকে প্রধান করে তাঁর অবর্তমানে এই কমিটি গঠন করা হয়।’
চিঠিতে রাশেদ খান মেনন বলেন, তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টরে সরাসরি অংশগ্রহণের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও ঘাঁটি স্থাপন করার নীতি গ্রহণ করেছিলেন। নরসিংদী জেলার শিবপুরকে প্রধান কেন্দ্রস্থল করে তাঁরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘাঁটি স্থাপন করেন।
চিঠিতে আরও জানানো হয়, ‘ইতিমধ্যে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা দলকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন এবং তারা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আশা করি। আমরাও একইভাবে আমাদেরসহ শিবপুরের যাঁরা বাদ পড়েছেন তাঁদের তালিকাভুক্ত করার দাবি রাখি।’
শিবপুরে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১৬১।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে মন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্তে বলা আছে, ১৯৭১-এর মার্চে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে তিনি (রাশেদ খান মেনন) কার্যত প্রকাশ্যে স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগঠিত করার কাজ শুরু করেন। পঁচিশে মার্চ পল্টনের শেষ জনসভায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পঁচিশে মার্চের কালরাতের গণহত্যার পর তিনি আর এক মুহূর্ত দেরি না করে ঢাকার অদূরে নরসিংদীর শিবপুরকে কেন্দ্র করে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনের কাজ শুরু করেন এবং পরে ভারতে গিয়ে সব বামপন্থী সংগঠনকে নিয়ে ‘জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ সমন্বয় কমিটি’ গঠন করে বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি করে প্রবাসী সরকারের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন ও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টরে এবং দেশের অভ্যন্তরে কেন্দ্র স্থাপন করে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
সূত্র: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২৩ মাঘ ১৪২৩, রোববার, প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
Also Read
-
ইরানের নিরাপত্তা প্রধান লারিজানি ও বাসিজ ফোর্সের প্রধান সোলাইমানি নিহত, দাবি ইসরায়েলের
-
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেভাবে দাবার বোর্ড সাজিয়েছে ইরান ও চীন
-
যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শিক্ষা দিতে চাওয়া’ কে এই আলী লারিজানি
-
কোথাও রেশনিং, কোথাও চাহিদামতো তেল মিলছে
-
গত এক দশকে বাংলাদেশে অর্ধেক তরুণ চাকরি পাননি: বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট