শহীদ বুদ্ধিজীবী
আফসার হোসেন
শহীদ বুদ্ধিজীবী, প্রকৌশলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
দেশ ও আপন সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল প্রকৌশলী আফসার হোসেনের। সেটিই কাল হয়ে ছিল তাঁর জন্য। পাকিস্তানি গোয়েন্দারা তাঁর ওপর আগে থেকেই নজর রেখেছিল। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সৈনিকেরা তাঁকে পথ থেকে তুলে নিয়ে যায়।
আফসার হোসেন ছিলেন তৎকালীন পিআইএর (বোয়িং ৭০৭) ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী। জন্ম ১৯৩৮ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার চাঁদপুর গ্রামে। বাবা আবদুস সোবহান ও মা সহর বানু। পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে তিনি তৎকালীন রাজশাহী সার্ভে ও ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে ভর্তি হন।
করাচিতে কর্মরত থাকার সময় আফসার হোসেন বাঙালি পরিবারের সন্তানদের জন্য ড্রিগরোড কলোনিতে একটি বাংলা স্কুল পরিচালনা করেন। শিক্ষকেরাও ছিলেন বাঙালি এবং পড়ালেখার পাশাপাশি বাঙালি সংস্কৃতি চর্চারও পরিবেশ ছিল এখানে। এ কারণে পাকিস্তানিদের সন্দেহের দৃষ্টিতে ছিলেন তিনি।
আফসার হোসেন একাত্তরের ৪ মে ঢাকার বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন ব্যাংক থেকে টাকা তোলার জন্য। তাঁর স্ত্রী হাসনাত শাহেদা বেগম স্মৃতি:১৯৭১-এ লিখেছেন, ‘টাকা উঠানোর কিছুক্ষণ পর চারজন বন্দুকধারী আর্মি তাঁহাকে ধাক্কা দিয়া ক্যান্টনমেন্টের দিকে লইয়া যাইতেছিল (সম্পাদনা রশীদ হায়দার, পুনর্বিন্যাসকৃত দ্বিতীয় খণ্ড, বাংলা একাডেমি)।’
স্বামীকে তুলে নেওয়ার পর ছোট ছোট চারটি ছেলেমেয়েকে নিয়ে প্রচণ্ড অর্থকষ্টে পড়েছিলেন হাসনাত শাহেদা বেগম। তিনি লিখেছেন, ‘দেশে যখন যুদ্ধাবস্থা চরম আকার ধারণ করিয়াছিল, তখন কোনো আত্মীয়স্বজন কাছে ছিল না। হাতে টাকাপয়সা নাই। আজ বেশি করিয়া মনে পড়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. রাব্বির কথা (ফজলে রাব্বি)। ৎ
তিনি ও ২/৩ জন মিলিয়া প্রতি মাসে চাঁদা তুলিয়া আমাকে সাহায্য করিয়াছিলেন। তবে সেই সাহায্য ৪ মাসের বেশি ভোগ করিতে পারি নাই। সবই আমার ভাগ্য। দেশ স্বাধীন হইবার পর স্বামীর বন্ধুদের সহায়তায় একটি ছোট চাকরি পাই।’ এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে পাঁচ হাজার টাকার অনুদান দিয়েছিলেন।
স্বাধীনতার পর রণাঙ্গন থেকে অনেকে ফিরে এসেছেন, যাঁরা নিখোঁজ হয়েছিলেন, তাঁদেরও কেউ কেউ ফিরেছেন। কিন্তু প্রকৌশলী আফসার হোসেন আর ফেরেননি। অনেক চেষ্টা করেও পরিবার তাঁর কোনো সন্ধান পায়নি।
Also Read
-
সৌদি আরবে ঈদুল আজহা ২৭ মে
-
হরমুজের গভীরে আরেক শক্তিতে নজর ইরানের, এর প্রভাবও হবে দুনিয়াজোড়া
-
ডুয়েটে উপাচার্যের যোগদান ঘিরে সংঘর্ষে আহত ২০, ছাত্রদল–ছাত্রশিবিরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
-
মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ডিএমপির নতুন কমিশনার
-
এখন প্রমাণিত হচ্ছে, মন্দ কাজগুলো আপনারাই করে মাজারের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন