বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্তদের তালিকা
শাহজাহান কবীর, বীর প্রতীক
গ্রাম দাসাদী, ইউনিয়ন কল্যাণপুর, সদর, চাঁদপুর। বর্তমান ঠিকানা মাদারটেক, ঢাকা।
বাবা মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মা আছিয়া বেগম।
স্ত্রী বেরজিছ বেগম। তাঁদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে।
খেতাবের সনদ নম্বর ৩০২।
১৯৭১ সালের ১৬ আগস্ট ভোরে চাঁদপুর নৌবন্দরে অপারেশন শেষে শাহজাহান কবীর এবং তাঁর সহযোদ্ধা অন্য নৌ-কমান্ডোরা বেশ বিপদে পড়েন। তাঁদের ফেরার পথে বিশাল জাহাজ ‘গাজী’কে নদীর পাড় ঘেঁষে প্রেতচ্ছায়ার মতো ভেসে আছে। সেটা দেখে তাঁরা কিছুটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন।
এ সময়ই গাজী চলতে শুরু করল। বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে গাজী নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছে। এ সুযোগই শাহজাহান কবীর ও অন্যরা কাজে লাগালেন। তাঁরা সাঁতরাতে করছে। দেড়-দুই কিলোমিটার দূরে নদীর পাড়সংলগ্ন এক পাটখেতে আশ্রয় নিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। একটা করে অন্তর্বাস ছাড়া তাঁদের প্রত্যেকের শরীর প্রায় অনাবৃত। আত্মরক্ষার জন্য কারও কাছে কোনো অস্ত্র নেই। হাতে শুধু ফিনস।
তখন ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে তাঁরা পাটখেত থেকে রওনা হলেন যেখানে তাঁদের আশ্রয় নেওয়ার কথা, সেই গন্তব্যের উদ্দেশে। শাহজাহান কবীরসহ ছয়জন নৌ-কমান্ডো এক দলে। দলনেতা বদিউল আলম কয়েকজনকে নিয়ে আরেকটি দলে। তৃতীয় একটি দলে বাকি যোদ্ধারা।
শাহজাহান কবীর তাঁর সঙ্গে থাকা নৌ-কমান্ডোদের নিয়ে একটি জেলেনৌকায় করে সন্ধ্যার দিকে এসে পৌঁছালেন তাঁদের আশ্রয়স্থলে। অপারেশন শেষে সবার একত্র হওয়ার কথা ছিল শাহজাহান কবীরের বাড়িতেই। তাঁর বাড়ি ছিল ওই এলাকাতেই। তাঁরা ছয়জন ভালোভাবে সেখানে পৌঁছালেও অন্যদের খোঁজ না পাওয়ায় তিনি তাঁদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।
এদিকে ১৭ আগস্ট সকালে উপস্থিত হলো আরেক বিপদ। পাকিস্তানি সেনারা শাহজাহান কবীরের বাড়ি ঘেরাও করে তাঁকে ও তাঁর বাবাকে আটক করল। তাঁর সঙ্গে আসা পাঁচ সহযোদ্ধা পাশে আরেকটি বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন। পাকিস্তানি সেনারা নৌ-কমান্ডোদের সম্পর্কে তথ্য জানার জন্য তাঁর ও তাঁর বাবার ওপর নির্যাতন চালায়, কিন্তু তাঁরা কোনো কিছুই স্বীকার করলেন না।
এরপর পাকিস্তানি সেনারা তাঁদের নিয়ে রওনা হলো ঘাঁটির দিকে। এ সময় শাহজাহান কবীরের বাবা পাকিস্তানি সেনাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কৌশলে ছেলের হাত ও পায়ের বাঁধন খুলে ফেলতে সক্ষম হন। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে শাহজাহান কবীর ঝাঁপিয়ে পড়েন নদীতে। ডুবসাঁতার দিয়ে তিনি চলে যান পাকিস্তানি সেনাদের নাগালের বাইরে। তারপর তিনি অনেক কষ্টে চলে যান ভারতে। পাকিস্তানি সেনারা হত্যা করে তাঁর বাবাকে।
শাহজাহান কবীর নৌ-কমান্ডো ছিলেন। চাঁদপুর নৌবন্দর ছাড়া আরও কয়েকটি অপারেশনে তিনি অংশ নেন। উল্লেখযোগ্য অপারেশনে অংশ নিয়েছিলেন চাঁদপুরের এখলাসপুর ও মোহনপুরে।
সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, প্রথম খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১২
সম্পাদক: মতিউর রহমান, সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান
Also Read
-
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার
-
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা নেই ইরানের
-
ন্যাটো থেকে স্পেনকে বাদ দেওয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র
-
মোজতবা খামেনির শরীরে একাধিক অস্ত্রোপচার, লাগতে পারে কৃত্রিম অঙ্গ
-
মুক্ত গণমাধ্যমকে পোড়ালে গণতন্ত্রও পুড়ে যায়