বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্তদের তালিকা
রঙ্গু মিয়া, বীর বিক্রম
গ্রাম মোকরা (মৌবাড়ি), উপজেলা চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা।
বাবা আবু মিয়া, মা লালমতি বিবি। স্ত্রী জয়তুন নেছা। তাঁদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে।
খেতাবের সনদ নম্বর ৫১।
শহীদ ১৯৭১।
অমিত সাহসী যোদ্ধা ছিলেন রঙ্গু মিয়া। হাতীবান্ধা অপারেশনে তিনি শহীদ হন। হাতীবান্ধা লালমনিরহাট জেলার অন্তর্গত। মুক্তিযুদ্ধকালে এই এলাকা ছিল মুক্তিবাহিনীর ৬ নম্বর সেক্টরের পাটগ্রাম সাবসেক্টরের আওতাধীন। এই সাবসেক্টরের অধিনায়ক ছিলেন ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান (বীর বিক্রম, পরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল, ১৯৮১ সালে জিয়া হত্যা ঘটনায় নিহত)। তাঁর ভাষ্যে ধরা আছে এই যুদ্ধের বিবরণ ও রঙ্গু মিয়ার বীরত্বের কথা। তিনি বলেন:
‘আমাদের প্রথম আক্রমণেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার নিহত হয়। কমান্ডার নিহত হওয়ায় পাকিস্তানি সেনারা পেছনে পালাতে থাকে। তারা প্রায় এক হাজার গজের মতো পিছু হটে একটি গ্রামে ডিফেন্স নেয়। সেখানে তাদের আর্টিলারি পজিশন ছিল। আমরা সামনে অগ্রসর হয়ে ডিফেন্স নিই। ক্রমশ আঘাত হেনে পাকিস্তানিদের পিছু হটিয়ে অগ্রসর হতে থাকি। ১০ ডিসেম্বর লাঙ্গলের হাটে পৌঁছি।
‘আমি আমাদের দলের একজনের কথা বলব। হাবিলদার রঙ্গু মিয়া। তাঁর চেহারা দেখলে মনে হতো যেন একটা ডাকাত। রঙ্গু মিয়া ও লুত্ফর রহমান হাতীবান্ধা অপারেশনে শহীদ হন। তাঁদের কথা না বললেই নয়।
‘তখন বেলা সাড়ে আটটা। পাকিস্তানিদের ডান দিকের পজিশন ফল করেছে। কিন্তু বাঁ দিকের অবস্থান ছিল একটি বিওপিতে। বেশ উঁচুতে। আমাদের উচিত ছিল আগে বাঁ দিকের পজিশন দখল করা, পরে ডান দিকের পজিশনে আঘাত হানা। আমার প্ল্যানিংয়ে ভুল হওয়ায় আমি প্রথমে ডান ও পরে বাঁ দিকে আক্রমণ চালাই। কিন্তু ডান দিকে আক্রমণ চালিয়েই আমি আমার ভুল বুঝতে পারি। বাঁ দিক দখল না করতে পারলে যে আমরা সেখানে থাকতে পারব না, তাও বুঝতে পারলাম।
‘আমাদের একটি কোম্পানির কমান্ডার ছিলেন লুত্ফর রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রঙ্গু মিয়া। আমরা অ্যাটাকিং পজিশন থেকে এগোচ্ছি, বাঁ দিকে। সময় তখন বেলা সাড়ে ১০টা। আমরা অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানি আর্টিলারির গোলা এসে পড়তে থাকল। এই গোলা শূন্যেই ফাটে এবং ক্ষয়ক্ষতি হয় বেশি। এর মধ্য দিয়ে ওই দুজন (রঙ্গু মিয়া ও লুত্ফর রহমান) নির্ভয়ে পাকিস্তানিদের বাংকারে চার্জ করেন। তাঁদের সাহস ও আত্মত্যাগ অতুলনীয়। দুজনই বাংকারে চার্জ করতে গিয়ে শহীদ হন।’
রঙ্গু মিয়া চাকরি করতেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে। ১৯৭১ সালে কর্মরত ছিলেন রংপুর সেনানিবাসে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সেনানিবাস থেকে পালিয়ে তাতে যোগ দেন।
সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১৩
সম্পাদক: মতিউর রহমান, সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান
Also Read
-
লাবুশেন–বার্টলেট জুটির ফিফটি
-
বিশ্বকাপের সঙ্গে অর্থনীতি মিশলে যা হয়
-
পটুয়াখালীতে হাত–পা বেঁধে নারীকে নির্যাতন, স্বামী–শ্বশুরকে আটকে পুলিশে দিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা
-
বিশ্বকাপে প্রথমবার, চার দেশের এক গল্প
-
মা গাছ পাওয়া গেল ৫ হাজার, টিকে আছে ১৭ প্রজাতির শুধু একটি করে