বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্তদের তালিকা
মো. শাহজাহান, বীর বিক্রম
গ্রাম চর ভাটিয়ালী (গুণের বাড়ি), ইউনিয়ন সিধুলী মাদারগঞ্জ, জামালপুর।
বাবা জসিমউদ্দীন সরকার, মা তছিরন বেওয়া। অবিবাহিত।
খেতাবের সনদ নম্বর ১৭৪।
শহীদ অক্টোবর ১৯৭১।
মধ্যরাতে মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান নিলেন সীমান্তসংলগ্ন বিরাট এক আখখেতের বিভিন্ন জায়গায়। অদূরেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সুরক্ষিত ঘাঁটি। পাকিস্তানি সেনাদের প্রলুব্ধ করার জন্য তাঁরা আখখেত থেকে কয়েকটি গুলি ছুড়লেন। প্ররোচনায় প্রলুব্ধ হয়ে পাকিস্তানি সেনারা সুরক্ষিত স্থান থেকে বেরিয়ে গুলি করতে করতে ঘাঁটির চারদিকে অবস্থান নিল। মুক্তিযোদ্ধারা একযোগে তাদের ওপর আক্রমণ চালালেন। তারাও পাল্টা আক্রমণ চালাল। শুরু হলো প্রচণ্ড যুদ্ধ।
আখখেতের এক জায়গায় পরিখায় ছিলেন মো. শাহজাহানসহ দুজন। তাঁদের অস্ত্রের গুলিতে হতাহত হলো দু-তিনজন পাকিস্তানি সেনা। তাদের আর্তচিত্কার শুনে মো. শাহজাহান আরও বেপরোয়া হয়ে উঠলেন। এরই মধ্যে তাঁদের দলের বেশির ভাগ সদস্য পশ্চাদপসরণ করতে শুরু করেছেন। কিন্তু সেদিকে তাঁর খেয়াল ছিল না। নিবিষ্ট মনে তিনি ও তাঁর এক সহযোদ্ধা গুলি করে চলেছেন। একপর্যায়ে পাকিস্তানি সেনারা তাঁদের ঘেরাও করে ফেলে। মো. শাহজাহান সাহসের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাদের মোকাবিলা করতে লাগলেন। অল্পক্ষণের মধ্যে তাঁদের গুলি শেষ হয়ে গেল। এর পরও তিনি মনোবল হারালেন না। সর্বশেষ অস্ত্র হিসেবে বেয়নেট নিয়ে হাতাহাতি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলেন। অন্যদিকে পাকিস্তানি সেনারা তাঁদের বাংকার লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো গুলি করতে থাকে। গুলিতে তাঁদের দুজনের শরীর ঝাঁঝরা হয়ে গেল। বাংকারেই শহীদ হলেন তাঁরা।
এ ঘটনা ঘটেছিল কামালপুরে। ১৯৭১ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে। আগস্টের শুরু থেকে মুক্তিবাহিনী কয়েক দিন পর পর কামালপুর ঘাঁটিতে অতর্কিতে আক্রমণ চালাতে থাকে। এসব আক্রমণের বেশির ভাগই ছিল হিট অ্যান্ড রান পদ্ধতির। এর মাধ্যমে পাকিস্তানি সেনাদের তটস্থ ও হয়রানি করাই ছিল মুক্তিবাহিনীর লক্ষ্য। এরই ধারাবাহিকতায় সেদিন মুক্তিবাহিনী কামালপুরে আক্রমণ করে। সন্ধ্যার পর মুক্তিযোদ্ধারা সীমান্তের ওপারের মহেন্দ্রগঞ্জ ক্যাম্প থেকে রওনা হয়ে রাতে সেখানে পৌঁছান। তারপর আখখেতের মধ্যে পরিখা খনন করে তাতে অবস্থান নেন। মধ্যরাত থেকে যুদ্ধ শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে ওই যুদ্ধ।
মো. শাহজাহান ১৯৭১ সালে ছিলেন ১৬ বছরের কিশোর। সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মে মাসের দিকে তিনি ভারতে চলে যান। তেলঢালায় প্রশিক্ষণ নিয়ে ১১ নম্বর সেক্টরের মহেন্দ্রগঞ্জ সাব-সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, প্রথম খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১২
সম্পাদক: মতিউর রহমান, সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান
Also Read
-
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার
-
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা নেই ইরানের
-
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা আজ, পরীক্ষার্থীদের মানতে হবে ১১ নির্দেশনা
-
মোজতবা খামেনির শরীরে একাধিক অস্ত্রোপচার, লাগতে পারে কৃত্রিম অঙ্গ
-
মুক্ত গণমাধ্যমকে পোড়ালে গণতন্ত্রও পুড়ে যায়