বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্তদের তালিকা
মো. ওয়ালিউল ইসলাম, বীর প্রতীক
ওয়ার্ড নম্বর ১৬, বটতলা, উত্তর আলেকান্দা সড়ক, বরিশাল।
বাবা মো. ওয়াজেদ আলী, মা আশরাফুননেসা।
স্ত্রী হোসনে আরা বেগম। তাঁদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে।
খেতাবের সনদ নম্বর ৩৮।
১৯৭১ সালের ২৯ নভেম্বর। মুক্তিযোদ্ধাদের দুটি দল ভারত থেকে এসে সমবেত হলো কৈলাসটিলায়। মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দলের নেতৃত্বে মো. ওয়ালিউল ইসলাম।
মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী যৌথভাবে শমশেরনগরে অবস্থানরত পাকিস্তানি সেনাদের ওপর আক্রমণ চালাবে। মো. ওয়ালিউল ইসলামের দল এবং অপর দলের ওপর দায়িত্ব, ভানুগাছে একদল পাকিস্তানি সেনা আছে, তারা যাতে পাল্টা আক্রমণ না করতে পারে, সেটাকে গার্ড করতে হবে।
১ ডিসেম্বর। মো. ওয়ালিউল ইসলাম সহযোদ্ধাদের নিয়ে প্রতিরক্ষা অবস্থান নিলেন ভানুগাছে। তাঁদের জানানো হয়েছে, সেখানে আছে এক প্লাটুন পাকিস্তানি সেনা। কিন্তু প্রতিরক্ষা অবস্থান নেওয়ার পর তাঁরা বুঝতে পারলেন, পাকিস্তানি সেনা সেখানে অনেক এবং তারা ১২০ মিমি মর্টারে সজ্জিত। বেশ শক্ত পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থান।
মো. ওয়ালিউল ইসলাম এতে বিচলিত না হয়ে সহযোদ্ধাদের মনে সাহস জোগালেন। পরদিন যোদ্ধাদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন পাকিস্তানি সেনাদের ওপর। শুরু হয়ে গেল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। মুক্তিযোদ্ধারা সাহসের সঙ্গে যুদ্ধ করতে থাকলেন। পাকিস্তানি সেনাদের পাল্টা আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধাদের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হলো। তবু তাঁরা হতোদ্যম হলেন না, ওয়ালিউল ইসলামের নেতৃত্বে বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করে পরদিন সকালে মুক্ত করলেন ভানুগাছ। ভানুগাছ যুদ্ধে মো. ওয়ালিউল ইসলাম যথেষ্ট রণকৌশল ও সাহস প্রদর্শন করেন। মূলত তাঁর প্রচেষ্টাতেই মুক্ত হয় ভানুগাছ। দখলে আসে পাকিস্তানি সেনাদের ফেলে যাওয়া অনেক অস্ত্রশস্ত্র ও রসদ।
মো. ওয়ালিউল ইসলাম ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম ইন্টারমিডিয়েট কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। কুমিল্লার ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে মা-বাবার অমতে তিনি ভর্তি হয়েছিলেন ওই কলেজে। তখন ছাত্ররাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মো. ওয়ালিউল ইসলাম ২৬ মার্চ থেকেই তাতে যোগ দেন। কয়েকজন সহপাঠীকে সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে তাঁরা অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দেন। তিনি বেশ কয়েকটি প্রতিরোধযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এর মধ্যে কালুরঘাট, মহালছড়ির যুদ্ধ অন্যতম।
প্রতিরোধযুদ্ধ শেষে মো. ওয়ালিউল ইসলাম ভারতে যান। ত্রিপুরায় হরিণা ক্যাম্পে অবস্থানকালে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় প্রথম বাংলাদেশ ওয়ার কোর্সে। জলপাইগুড়ির মূর্তি ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে অক্টোবরের প্রথমার্ধ থেকে যুদ্ধ করেন জেড ফোর্সের অধীনে। তাঁকে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বি কোম্পানির অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা, ছোটলেখাসহ আরও কয়েকটি জায়গায় সাহসের সঙ্গে যুদ্ধ করেন।
সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১৩
সম্পাদক: মতিউর রহমান, সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান
Also Read
-
ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোতে হামলা ছিল পরিকল্পিত: স্টার-ডিসমিসল্যাবের বিশ্লেষণ
-
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ঢাকায় অপহরণের সোয়া এক ঘণ্টার মধ্যে স্কুলছাত্র উদ্ধার
-
পাকিস্তান–ইংল্যান্ড: ব্রুকের অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে, পাকিস্তানের খাদের কিনারায়
-
বরিশালে আদালতে ঢুকে আইনজীবী সমিতির নেতাদের হট্টগোল, বেঞ্চে ধাক্কাধাক্কি
-
‘আমাকে বাঁচাও বাপ...খুব কষ্ট হচ্ছে’, তার জন্যও আইসিইউ জোগাড় হয়নি