বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্তদের তালিকা
মো. আমানউল্লাহ, বীর বিক্রম
গ্রাম হাটগাঁও, সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী।
বাবা ইসমাইল মিয়া, মা শরবত্ বানু। স্ত্রী সালেমা খাতুন। তাঁদের চার ছেলে ও তিন মেয়ে।
খেতাবের সনদ নম্বর ৩০।
শহীদ ১৩ ডিসেম্বর ১৯৭১।
দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত খানসামা। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গড়া যৌথ বাহিনী ৫ ডিসেম্বর দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁওয়ের মাঝামাঝি বীরগঞ্জ মুক্ত করে দিনাজপুরের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। ৯ ডিসেম্বর তারা দিনাজপুর শহরের কাছে পৌঁছে যায়। ১০ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনী সিদ্ধান্ত নেয় দিনাজপুর শহর দখল না করে খানসামা হয়ে নীলফামারীর দিকে যাওয়ার। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যৌথ বাহিনী ১৩ ডিসেম্বর খানসামায় আক্রমণ করে। সেখানে ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর শক্ত এক প্রতিরক্ষা অবস্থান। যৌথ বাহিনী সেখানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর শক্ত প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। তখন উভয় পক্ষে শুরু হয় প্রচণ্ড যুদ্ধ। এ যুদ্ধে মো. আমানউল্লাহ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিতে শহীদ হন। পাকিস্তানি সেনাদেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়। যুদ্ধের একপর্যায়ে পাকিস্তানি সেনারা পিছু হটে যায়। যৌথ বাহিনী খানসামা দখল করে। যুদ্ধ শেষে সহযোদ্ধারা গ্রামবাসীর সহায়তায় মো. আমানউল্লাহকে সেখানেই সমাহিত করেন।
মো. আমানউল্লাহর শহীদ হওয়ার ঘটনা তাঁর পরিবার জানতে পারে দেশ স্বাধীন হওয়ার অনেক পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তরফ থেকে একটি চিঠি পেয়ে।
মো. আমানউল্লাহ চাকরি করতেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। ১৯৭১ সালে ওই রেজিমেন্টের অবস্থান ছিল সৈয়দপুর সেনানিবাসে। তখন তাঁর পদবি ছিল নায়েব সুবেদার। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যুদ্ধে যোগ দেন। দিনাজপুরের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ করেন। প্রতিরোধযুদ্ধ শেষে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বেশির ভাগ মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়মিত মুক্তিবাহিনীর জেড ফোর্সে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু তিনি জেড ফোর্সে না গিয়ে ৭ নম্বর সেক্টরের অধীনেই যুদ্ধ করেন।
Also Read
-
ঢাকার রাস্তা আজ আরও ফাঁকা
-
কোম্পানীগঞ্জে আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে ৬ জন গুলিবিদ্ধ, বাড়িঘর ভাঙচুর
-
পদ্মা সেতুর কাজ আগামী এপ্রিলে শেষ করার চিন্তা
-
রাজশাহী মেডিকেলে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ জনের মৃত্যু
-
আজ যদি গোস্বা নিবারণী পার্ক থাকত!