বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্তদের তালিকা
মনসুর আলী, বীর প্রতীক
গ্রাম গুঞ্জুর, উপজেলা মুরাদনগর, কুমিল্লা।
কেরামত আলী ফকির, মা সূর্যবান বেগম। স্ত্রী মনোয়ারা বেগম। তাঁদের পাঁচ ছেলে ও পাঁচ মেয়ে।
খেতাবের সনদ নম্বর ৭৬।
মৃত্যু ২০০৫।
৪ আগস্ট, ১৯৭১। সকালে একের পর এক শব্দ। গোলা পড়ছে কোদালকাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায়। কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার অন্তর্গত কোদালকাটি।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৩ আগস্ট পর্যন্ত গোটা রৌমারী মুক্ত ছিল। কোদালকাটি ও এর আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকটি দল (প্লাটুন)। একটি দলের নেতৃত্বে ছিলেন মনসুর আলী। সেদিন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিরাট একটি দল নিয়ে আকস্মিক আক্রমণ চালিয়ে কোদালকাটি দখল করে বসে। কোদালকাটিতে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে তখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি।
কয়েক দিন পর অর্থাত্ ১৩ আগস্ট পাকিস্তানি সেনাবাহিনী রৌমারী থানা সদর দখলের লক্ষ্যে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে কোদালকাটি থেকে রাজীবপুরের দিকে অগ্রসর হয়। বিভিন্ন দিক দিয়ে আক্রমণ চালিয়ে তারা রাজীবপুর দখলের চেষ্টা করে।
মনসুর আলীর অবস্থানগত এলাকা দিয়েও পাকিস্তানি সেনাবাহিনী অগ্রসর হয়। তিনি সীমিত শক্তি নিয়েই সাহসের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ওই দলের অগ্রযাত্রা প্রতিহত করেন। পাকিস্তানিরা পরে আরও কয়েকবার তাঁর অবস্থানগত এলাকা দিয়ে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। প্রতিবারই তিনি সাহসের সঙ্গে তা প্রতিহত করেন।
সেপ্টেম্বর মাসের শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের শক্তি বৃদ্ধি পায়। এরপর তাঁরা কোদালকাটি থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে চূড়ান্তভাবে উচ্ছেদের জন্য আক্রমণ করেন। মূল আক্রমণে অংশগ্রহণকারী চারটি দলের একটি ছিল মনসুর আলীর দল।
আক্রমণের সময় নির্ধারিত ছিল ২ অক্টোবর রাত। আগের দিন তিনি তাঁর সহযোদ্ধাদের নিয়ে সাজাই-শংকর-মাধবপুর গ্রামের মাঝামাঝি অবস্থান নেন। দ্বিতীয় দল ওই গ্রামের শেষ প্রান্তে ভেলামারী গ্রামে, তৃতীয় দল মাধবপুর গ্রামের উত্তরে এবং চতুর্থ দল পূর্ব প্রান্তে অবস্থান নেয়।
কিন্তু পাকিস্তানি সেনাবাহিনী মুক্তিবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে যায়। ২ অক্টোবর দুপুরে তারা ব্যাপক মর্টার ফায়ারের ছত্রচ্ছায়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের সব অবস্থানে একযোগে আক্রমণ করে। মনসুর আলী ও তাঁর সহযোদ্ধারা বিপুল বিক্রমে পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণ প্রতিহত করার মাধ্যমে পাল্টা আক্রমণ করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যান্য দলও পাল্টা আক্রমণ করে। সারা দিন বিভিন্ন জায়গায় যুদ্ধ চলে।
মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে পাকিস্তানি সেনারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। হতাহত হয় অনেক পাকিস্তানি সেনা। সন্ধ্যার পর তারা আহত ও নিহত সেনাদের নিয়ে পিছু হটে নিজেদের ক্যাম্পে সমবেত হয়। পরদিন সকালে মুক্তিযোদ্ধারা জানতে পারেন, পাকিস্তানি সেনারা পালিয়ে গেছে।
মনসুর আলী চাকরি করতেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে। ১৯৭১ সালে কর্মরত ছিলেন তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। এর অবস্থান ছিল সৈয়দপুর সেনানিবাসে। তখন তাঁর পদবি ছিল হাবিলদার। ২৫ মার্চ তিনি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীতে মোতায়েন ছিলেন।
সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১৩
সম্পাদক: মতিউর রহমান, সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান
Also Read
-
নেপালে আকস্মিক বন্যা–ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৫৭, নিখোঁজ চার শতাধিক
-
কেন নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক এই বন্যা, কেন এত প্রাণহানি
-
সাংবাদিককে ‘তৌহিদী জনতা’র নামে চিঠি, ‘আপনার মুভমেন্ট আমরা সব সময় নজর রাখছি’
-
সরকার সফল হলে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট ও জননিরাপত্তার সমস্যা কেন থাকবে
-
ছিনতাইয়ের পর গিলে ফেলেন কানের দুল, বমি করিয়ে উদ্ধার করল পুলিশ