বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্তদের তালিকা
মতিউর রহমান, বীর প্রতীক
গ্রাম সাতঘরিয়া, ইউনিয়ন হলদিয়া, লৌহজং, মুন্সিগঞ্জ।
বাবা আবদুল আলী শেখ, মা জুলেখা বেগম।
স্ত্রী লাইজু বেগম। তাঁদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে।
খেতাবের সনদ নম্বর ৩০১।
মতিউর রহমান ১৯৭১ সালে দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। মা-বাবাকে না বলেই মে মাসের কোনো একদিন তিনি ভারতে চলে যান। ভারতীয় নৌবাহিনীতে তিনি তিন মাস প্রশিক্ষণ নেন। যুদ্ধে তাঁর দায়িত্ব ছিল মাইন দিয়ে জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া।
যুদ্ধ শেষে মতিউর আবার স্কুলে ভর্তি হন। এসএসসি পাস করে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীতে ভর্তি হলেও শেষ পর্যন্ত পাস করা হয়নি। পরে তিনি ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। এর আয় দিয়েই তাঁর দিন চলতে থাকে। মতিউর রহমান পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে জানতে পারেন যে তিনি সত্যিই ‘বীর প্রতীক’ খেতাব পেয়েছেন।
মতিউর রহমান জানান, তিনি ১০ নম্বর সেক্টরের অধীনে নৌ-কমান্ডো ছিলেন। তাঁরা ভারত থেকে এসে পাকিস্তানি বাহিনীর জাহাজে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আবার ভারতে চলে যেতেন। তিনি সাফল্যের সঙ্গে তিনটি অপারেশনে অংশ নেন। তিনটি অপারেশনই ছিল নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে। প্রথমটি কাঁচপুর সেতুসংলগ্ন স্থানে। দ্বিতীয়টি নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল ঘাট এবং তৃতীয়টি গলাগাছিয়ায়। তিনি প্রথম অপারেশনে অংশ নেন অক্টোবরে। রাত দেড়টার দিকে শুরু করেন অপারেশন। তাঁদের দলে ছিলেন মোট পাঁচজন। সবার বুকে মাইন বাঁধা। ওই দিন রাতে তাঁরা কাঁচপুর সেতুর কাছে জাহাজে মাইন লাগিয়ে চলে আসেন। পরে সময়মতো মাইনটি বিস্ফোরিত হয়।
মতিউর রহমান পোশাক কারখানার চাকরি থেকে অবসর নেন।
সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, প্রথম খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১২
সম্পাদক: মতিউর রহমান, সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান
Also Read
-
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্র
-
মার্কিন হামলার আশঙ্কা, সতর্ক ইরান
-
ইরানে কোথায়, কীভাবে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
-
নাজমুল পদত্যাগ না করলে সব ধরনের খেলা বয়কট: ক্রিকেটারদের আলটিমেটাম
-
জামায়াতের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যে নতুন জোটের ইঙ্গিত ইসলামী আন্দোলনের