বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্তদের তালিকা
দেলোয়ার হোসেন, বীর প্রতীক
গ্রাম দুর্গাপাশা, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল।
বাবা আমীর হোসেন খন্দকার, মা সখিনা বেগম।
তাঁর দুই স্ত্রী— হাসনাহেনা হোসেন ও মোতায়ারা হোসেন। তাঁদের চার ছেলে ও চার মেয়ে।
খেতাবের সনদ নম্বর ২৩৩।
দেলোয়ার হোসেন ইপিআরে চাকরি করতেন। ১৯৭১ সালে কর্মরত ছিলেন চট্টগ্রাম সেক্টর হেডকোয়ার্টারে। তখন তাঁর বয়স ২৫-২৬ বছর। তাঁরা আগে থেকেই জানতেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাঁদের ওপর আক্রমণ করবে। ২৫ মার্চ রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রাম ইপিআরের হেডকোয়ার্টার্স অ্যাডজুট্যান্ট ক্যাপ্টেন (পরে মেজর) রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম) প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য তাঁদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। হালিশহর এলাকার চারদিকে অবস্থান নেন তাঁরা। রাত দেড়-দুইটার দিকে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর তিনটি গাড়ি হালিশহরে আক্রমণ করার জন্য এগিয়ে আসে। দেলোয়ার হোসেন ও তাঁর সঙ্গী মীর কাশেম লাইট মেশিনগান নিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ চালান। এতে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একজন আহত হয়। এটা ছিল দেলোয়ার হোসেনের তাঁর প্রথম যুদ্ধ।
২৬ মার্চ দেলোয়ার হোসেন তাঁর দলের সঙ্গে কুমিরায় অবস্থান নেন। সন্ধ্যার দিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরাট একটি বহর কুমিল্লা থেকে কুমিরায় উপস্থিত হলে সেখানে প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধ চলে টানা তিন-চার ঘণ্টা। পাকিস্তানি সেনারা যখন ব্যারিকেড সরানোর কাজে ব্যস্ত, তখন মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণ করেন। এতে পাকিস্তানি সেনারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধাদের গুলিতে অনেক পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। এরপর কুমিরা থেকে এসে তাঁরা আবার হালিশহরে অবস্থান নেন। ২৯ মার্চ পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ হালিশহরে বোমাবর্ষণ শুরু করে। এতে তাঁদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তখন তাঁরা হালিশহরের অবস্থান ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েন।
দেলোয়ার হোসেন প্রথমে ১ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন। পরে তাঁকে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর জেড ব্রিগেডের অধীনে যুদ্ধ করেন তিনি। আট-নয়টি যুদ্ধে অংশ নেন। এর মধ্যে লাতু ও শুভপুরের যুদ্ধ উল্লেখযোগ্য।
১৯৭১ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে মৌলভীবাজারের লাতু এলাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর বেশ কয়েক দিন টানা যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর কয়েকজন শহীদ এবং দেলোয়ারসহ কয়েকজন যোদ্ধা আহত হন। এক দিন হালকা মেশিনগান দিয়ে তিনি গুলি করছিলেন। একপর্যায়ে প্রচণ্ড গুলিবৃষ্টির মধ্যে ক্রল করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর বাঁ পা মাইনের আঘাতে উড়ে যায়। ডান পায়ে গুলি লাগে। ভেবেছিলেন, বাঁচবেন না। ওই অবস্থায়ও তিনি মনোবল হারাননি। সহযোদ্ধারা তাঁকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পরে উন্নত চিকিৎসার পর তাঁর কৃত্রিম পা লাগানো হয়। এই কৃত্রিম পায়ের সাহায্যে তিনি এখন চলাফেরা করেন।
বিডিআরের চাকরি থেকে ১৯৮৪ সালে বাধ্যতামূলক অবসর নেন।
সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, প্রথম খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১২
সম্পাদক: মতিউর রহমান, সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান
Also Read
-
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান: সিএনএনকে জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা
-
পূর্ব তেহরানে অন্তত ৪০ জন নিহত
-
‘সবচেয়ে ভয়াবহ’ বিমান হামলার রাতে কাঁপছে ইরান
-
আমরা বিপুল অর্থ আয় করতে যাচ্ছি: ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন সিনেটর গ্রাহাম
-
নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাজধানীর শপিং মলগুলোতে আলোকসজ্জা