বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্তদের তালিকা
তোফায়েল আহমেদ, বীর প্রতীক
মজুমদারবাড়ী, গ্রাম সিলুয়া, ইউনিয়ন পাঠাননগর, ছাগলনাইয়া, ফেনী।
বাবা মুজাফফর আহমদ মজুমদার, মা ফাতেমা খাতুন।
স্ত্রী শরীফা খাতুন। তাঁদের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে।
খেতাবের সনদ নম্বর ২২৭।
তোফায়েল আহমেদ অসুস্থ। ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না। থেমে থেমে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে গিয়ে উত্তেজনায় কেঁপে উঠছিলেন। হঠাৎ যেন তাঁর স্মৃতির মণিকোঠায় ভিড় জমায় অনেক কথা। তাঁর চোখ বারবার সিক্ত হয়ে পড়ছিল। তাঁর জীবনের স্মরণীয় একটি যুদ্ধের কথা বলতে গিয়ে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন। কিন্তু সব কথা বলতে পারলেন না। কোনোরকমে সেই জায়গার নাম, তাঁর কোম্পানি কমান্ডারের নাম এবং আরও কয়েকটি জায়গার নাম বললেন, যেখানে তিনি যুদ্ধ করেছিলেন। স্মরণীয় সেই যুদ্ধ হয়েছিল বালিয়াডাঙ্গায়। এ যুদ্ধ এত ভয়াবহ ও লোমহর্ষক ছিল যে তাতে যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন, এখন সে কথা মনে হলে তাঁদের প্রত্যেকেই শিউরে ওঠেন।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। তখন একদল মুক্তিযোদ্ধার অবস্থান ছিল সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার বালিয়াডাঙ্গায়। ইপিআর, আনসার, মুজাহিদ ও ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে গড়া মুক্তিবাহিনী। মুক্তিবাহিনীর গেরিলা আক্রমণে পাকিস্তানি সেনারা অতিষ্ঠ। তাই তারা মুক্তিযোদ্ধাদের দমনে নতুন কৌশল নেয়। হঠাৎ এক দিন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বালুচ রেজিমেন্ট বিপুল শক্তি নিয়ে মুক্তিবাহিনীর অবস্থানে আক্রমণ চালায়। তাদের আক্রমণের মাত্রা ক্রমেই তীব্রতর হতে থাকে। বৃষ্টির মতো আর্টিলারি গোলার আঘাতে মুক্তিযোদ্ধারা দিশেহারা হয়ে পড়েন। পাকিস্তানি সেনাদের প্রচণ্ড আক্রমণের মধ্যেও তাঁরা টিকে থাকার চেষ্টা করেন। যুদ্ধ চলল কয়েক দিন। তিন কি চার দিনের মাথায় পাকিস্তানি সেনাদের অব্যাহত আক্রমণের মুখে মুক্তিবাহিনী সেখান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হলো। পাকিস্তানি সেনাদের গোলার আঘাতে মুক্তিবাহিনীর আটজন যোদ্ধা ও অনেকে আহত হন।
তোফায়েল আহমেদ ছিলেন ইপিআরে। কর্মরত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তসংলগ্ন এলাকা। সেখানকার কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার তোবারক উল্লাহর নেতৃত্বে বিদ্রোহ করে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। তিনি ৮ নম্বর সেক্টর এলাকায় যুদ্ধ করেন; কখনো ভোমরা, কখনো হাকিমপুর সাব-সেক্টরে। তোবারক উল্লাহর নেতৃত্বে বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ করে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তিনি অসীম সাহসের পরিচয় দেন। ভোমরায় এক যুদ্ধে তিনি সামান্য আহত হন। পাকিস্তানি সেনাদের বোমায় তাঁর বাঁ হাতের অংশবিশেষ ঝলসে যায়।
১৯৮৩ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন।
সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, প্রথম খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১২
সম্পাদক: মতিউর রহমান, সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান
Also Read
-
ইরান নিয়ে ট্রাম্পের হিসাবে কি ভুল হলো
-
ইরানের ১০টি ‘মাইন স্থাপনকারী’ নৌযান ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের
-
ইসরায়েলে আঘাত হানছে ইরানের গুচ্ছ বোমা
-
ইরান যুদ্ধ থেকে ট্রাম্পকে দ্রুত সরে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন উপদেষ্টারা
-
বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদের তিন সহযোগী আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার