বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্তদের তালিকা
জহুরুল হক মুন্সী, বীর প্রতীক
খামারিয়া পাড়া, শ্রীবরদী পৌর এলাকা, শ্রীবরদী, শেরপুর।
বাবা আবদুল গফুর মিয়া, মা গোলেছা খাতুন।
স্ত্রী মাহমুদা খাতুন। তাঁদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে।
বীর প্রতীক খেতাব পান দুটি, খেতাবের সনদ নম্বর ৪০০, ৩৯১।
তিনি কখনো কলা বিক্রেতা হতেন, কখনো জুতো সেলাইয়ের কাজ করতেন, অর্থাৎ মুচি সেজে পাকিস্তানি সেনাদের মনোভাব জানতেন কিংবা তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতেন। আবার তিনি অস্ত্র হাতেও যুদ্ধ করতেন। মাইন পোঁতায় তিনি ছিলেন খুবই পারদর্শী। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানি সেনাদের কাছে আত্মসমর্পণের আহ্বানসংবলিত চিঠি পৌঁছাতে গিয়ে তাদের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন।
১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর কামালপুর দখল করার পর জামালপুর শহরের পাকিস্তানি অবস্থানে হামলার প্রস্তুতি চলছিল। ৩১ বেলুচের প্রায় দেড় হাজার সেনা পিটিআই ক্যাম্পে স্থাপিত প্রতিরক্ষা অবস্থানে ছিল। এই অবস্থান উচ্ছেদ না করে মিত্রবাহিনীর টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকার দিকে অভিযান পরিচালনা করা এক অর্থে অসম্ভব ছিল। এ অবস্থায় শত্রুপক্ষের মনোভাব জানতে মিত্রবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার ক্লেয়ার আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে চিঠি লেখেন পাকিস্তানি অধিনায়কের কাছে। কিন্তু এ চিঠি নিয়ে কে যাবেন? জহুরুল হক মুন্সী তখন ভারতের পুরাখাসিয়া ক্যাম্পে ছিলেন। এ দায়িত্ব গ্রহণে তিনি স্বেচ্ছায় রাজি হলেন।
৯ ডিসেম্বর তিনি সাদা পতাকা উড়িয়ে সাইকেলে চড়ে রওনা হলেন জামালপুরের দিকে। পিটিআই ক্যাম্পে যাওয়ার পথে পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে আটক করে চোখ ও হাত বেঁধে নিয়ে যায় তাদের অধিনায়কের কাছে। চিঠি বহনের অপরাধে তাঁর ওপর শুরু হয় অকথ্য নির্যাতন। এসএমজির বাঁটের আঘাতে মুন্সীর মুখের ওপরের পাটির চারটি দাঁত ভেঙে যায়। রাইফেলের বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে তাঁর পা ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁকে শূন্যে ঝুলিয়ে কথা বের করার চেষ্টা করা হয়। এরপর পাকিস্তানি অধিনায়ক ভারতীয় ব্রিগেডিয়ার ক্লেয়ারের চিঠির জবাব লিখে সেই চিঠির ভেতর রাইফেলের গুলি ভরে মুন্সীকে ফেরত পাঠায়। ওই দিনই গভীর রাতে মুন্সী পৌঁছান মিত্রবাহিনীর ক্যাম্পে। পরদিন ১০ ডিসেম্বর ভোরে মিত্রবাহিনী জামালপুরের পাকিস্তানি ক্যাম্পে আঘাত হানে। মুক্ত হয় জামালপুর।
জহুরুল হক মুন্সী ১৯৭১ সালে ডকশ্রমিক ছিলেন। ষাটের দশক থেকে নারায়ণগঞ্জ ডক ইয়ার্ডে কাজ করতেন।
সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, প্রথম খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১২
সম্পাদক: মতিউর রহমান, সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান
Also Read
-
যুক্তরাষ্ট্রের এক কোম্পানি থেকেই ১৩ বছরে আসবে ৭১ হাজার কোটি টাকার এলএনজি
-
গুমের তদন্ত করবে পুলিশ, বাদ যাচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
-
অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বেরিয়ে হবিগঞ্জ থেকে ঢাকার পথে নাসীরুদ্দীন ও সারিজস
-
যশোরে এমপির বাড়িতে হামলা : প্রধান ফটকে তালা, কেউ বের হচ্ছেন না, পুলিশ মোতায়েন
-
‘এই জিনিসটা মানুষকে পশু বানিয়ে দেয়’: বাংলাদেশে ইয়াবা আসক্তির মহামারি