বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্তদের তালিকা
খাজা নিজামউদ্দীন ভূঁইয়া, বীর উত্তম
গ্রাম মালাপাড়া, ব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লা।
বাবা আবদুল লতিফ ভূঁইয়া, মা তাবেন্দা আক্তার। অবিবাহিত।
খেতাবের সনদ নম্বর ১৪। গেজেটে নাম খাজা নিজামউদ্দীন।
শহীদ ৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭১।
১৯৭১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের দলনেতা খাজা নিজামউদ্দীন তাঁর দল নিয়ে সিলেট জেলার কানাইঘাটের আটগ্রাম সড়কের বাজারের কাছে বিস্ফোরক দিয়ে একটি সেতু ধ্বংস করেন। সে সময় একদল পাকিস্তানি সেনা সেতুর খুব কাছাকাছি অবস্থান করছিল। তারা নিজামউদ্দীনের দলের ওপর আক্রমণ করে। তখন পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে তাঁদের সম্মুখযুদ্ধ শুরু হয়। এ যুদ্ধে তিনি ও তাঁর দলের মুক্তিযোদ্ধারা যথেষ্ট সাহসের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে মোকাবিলা করতে থাকেন। একপর্যায়ে পাকিস্তানি সেনাদের ছোড়া গোলার আঘাতে খাজা নিজামউদ্দীন শহীদ এবং কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা আহত হন। এ যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীরও অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। যুদ্ধ শেষে দলের অন্য মুক্তিযোদ্ধারা খাজা নিজামউদ্দীনের মৃতদেহ এবং আহত মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরে মুক্তিযোদ্ধারা খাজা নিজামউদ্দীন ভূঁইয়াকে সিলেটের মুকামটিলায় সমাহিত করেন।
খাজা নিজামউদ্দীন ভূঁইয়া ১৯৭০ সালে এমকম পরীক্ষা শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈশ বিভাগে এমবিএতে ভর্তি হয়েছিলেন। চাকরিও করতেন ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে (পরে শেরাটন, বর্তমানে রূপসী বাংলা)। কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস পদে কর্মরত ছিলেন। চাকরি ও পড়াশোনা দুটোই একসঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ১৯ এপ্রিল তিনি ঢাকা থেকে পালিয়ে নিজ এলাকা হয়ে ভারতে চলে যান। তখন তাঁর বয়স ছিল ২২।
ভারতে অস্ত্র বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর খাজা নিজামউদ্দীন ভূঁইয়া ৪ নম্বর সেক্টরের অধীন জালালপুর সাব-সেক্টরে যুদ্ধ করেন। সিলেট জেলার কানাইঘাট, মস্তানগঞ্জ, ভরামইদ, নক্তিপাড়া ও মণিপুর বাজারে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিজামউদ্দীন যুদ্ধ করেন।
Also Read
-
মহাখালীর সাততলা বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে, পুড়েছে শত শত ঘর
-
করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপের শঙ্কা
-
বাবুনগরীর নেতৃত্বেই হেফাজতের নতুন কমিটি, ঘোষণা আজ
-
বাংলাদেশ দলকে বিরক্তিকর বললেন ভারতের কোচ
-
দেশে বসেই যেভাবে সম্ভব আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উচ্চশিক্ষা