বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্তদের তালিকা
এ কে এম আতিকুল ইসলাম, বীর প্রতীক
গ্রাম উত্তর নোয়াগাঁও, মুরাদনগর, কুমিল্লা। বর্তমান ঠিকানা কানাডা।
বাবা এ কে এম সিরাজুল ইসলাম,
মা নসিবা খাতুন। স্ত্রী মারুফা ইসলাম। তাঁদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে।
খেতাবের সনদ নম্বর ৩৪৯।
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার অন্তর্গত লাতু রেলস্টেশন। অবস্থান ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে। ১৯৭১ সালে এখানে পাকিস্তানি সেনারা ঘাঁটি করে। ১০ আগস্ট মুক্তিবাহিনী এ ঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী এ কে এম আতিকুল ইসলামসহ মুক্তিযোদ্ধারা বিকেলে একযোগে আক্রমণ করেন। এরপর দুই পক্ষে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তীব্র আক্রমণ প্রতিরোধের চেষ্টা করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত বা আহত হয়। ১৫ মিনিট পর পাকিস্তানি সেনারা ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়ে যেতে থাকে। সন্ধ্যা সাতটার পর সব সেনা ঘাঁটি ছেড়ে চলে যায়। ঘাঁটি দখল করে মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে উড্ডীন পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান এবং অবস্থান নেন।
এদিকে লাতুতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর রিইনফোর্সমেন্ট যাতে না আসতে পারে, সে জন্য মুক্তিবাহিনীর একটি দল কাট অফ পার্টি হিসেবে নিয়োজিত ছিল। তাঁরা বড়লেখা থেকে রিইনফোর্স হিসেবে আগত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়। ফলে লাতু ঘাঁটি দখলকারী মুক্তিযোদ্ধারা বেশ সংকটে পড়েন।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নতুন এ দল লাতুতে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর ব্যাপক শেলিং শুরু করে। এ কে এম আতিকুল ইসলামসহ মুক্তিযোদ্ধারা এতে বিচলিত হননি। সাহসের সঙ্গে তাঁরা পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলা করেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষয়ক্ষতি বেড়ে যায়। তখন তাঁদের অধিনায়ক বাধ্য হয়ে পশ্চাদপসরণের সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে যান। ঘাঁটি দখল করে তাঁরা তা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হলেও এ ঘটনা পাকিস্তানিদের মনোবলে যথেষ্ট চিড় ধরায়। পাকিস্তানিরা পাঁচজনের লাশ এবং বিপুল গোলাবারুদ ও কিছু অস্ত্রশস্ত্র ফেলে পালিয়ে গিয়েছিল।
লাতুতে ব্যর্থ হলেও এ কে এম আতিকুল ইসলামরা লুবাছড়ায় ব্যর্থ হননি। এ যুদ্ধের বর্ণনা আছে মেজর সি আর (চিত্তরঞ্জন) দত্তের (বীর উত্তম, পরে মেজর জেনারেল) বয়ানে। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সাদী (মাহবুব রব সাদী বীর প্রতীক) তাঁর দলের মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে লুবাছড়া চা-বাগানে আক্রমণ চালান। দুই দিন তুমুল যুদ্ধের পর লুবাছড়া-কারবালা আমাদের হস্তগত হয়। পরে পাকিস্তানিরা বারবার চেষ্টা চালিয়েছে লুবাছড়া দখল করতে। কিন্তু তারা সমর্থ হয়নি।
‘এ যুদ্ধে কয়েকজন বীরত্ব প্রদর্শন করেন। তাঁদের বীরত্বসূচক খেতাব দেওয়ার জন্য আমি সিএনসির (মুক্তিবাহিনীর প্রধান) কাছে সুপারিশ করেছিলাম।’
এ কে এম আতিকুল ইসলাম ১৯৭১ সালে শিক্ষার্থী ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ভারতে যান। প্রশিক্ষণ নিয়ে ৪ নম্বর সেক্টরের বড়পুঞ্জি ও জালালপুর সাবসেক্টর এলাকায় যুদ্ধ করেন।
সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১৩
সম্পাদক: মতিউর রহমান, সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান
Also Read
-
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্র
-
মার্কিন হামলার আশঙ্কা, সতর্ক ইরান
-
ইরানে কোথায়, কীভাবে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
-
নাজমুল পদত্যাগ না করলে সব ধরনের খেলা বয়কট: ক্রিকেটারদের আলটিমেটাম
-
জামায়াতের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যে নতুন জোটের ইঙ্গিত ইসলামী আন্দোলনের