বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্তদের তালিকা

আবদুল মালেক, বীর প্রতীক

  • মহল্লা গোকর্ণ, পৌর এলাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

  • বাবা করম উদ্দিন, মা পঙ্খীরাজ বেগম। তাঁর দুই স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও আঙ্গুরা বেগম। তাঁদের সাত ছেলে ও চার মেয়ে।

  • খেতাবের সনদ নম্বর ১৭৬।

  • মৃত্যু ২০০৫।

আবদুল মালেক

আবদুল মালেক চাকরি করতেন ইপিআরে। ১৯৭১ সালে কর্মরত ছিলেন যশোর ইপিআর সেক্টরে। তখন তাঁর পদবি ছিল নায়েব সুবেদার। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যুদ্ধে যোগ দেন। যশোরে প্রতিরোধযুদ্ধ শেষে ভারতে আশ্রয় নেন। পরে যুদ্ধ করেন ৮ নম্বর সেক্টরের অধীনে। যশোর জেলায় সংঘটিত বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ নেন তিনি।

মার্চ-এপ্রিলে যশোর সেক্টরের ইপিআর সদস্যরা মূলত দুটি ভাগে ভাগ হয়ে প্রতিরক্ষাব্যূহ রচনা করেন। হাবিলদার তফাজ্জল আলীর নেতৃত্বে ৩২ জনের একটি দল যশোরের সন্ন্যাসদিঘিতে যান। সেক্টর প্রতিরক্ষার জন্য ৬০ জন ইপিআর সদস্য নিয়ে থেকে গেলেন নায়েব সুবেদার আবদুল মালেক।

১ এপ্রিল আবদুল মালেক, হাবিলদার আবদুল আউয়াল ও সেপাই মজিবুল্লাহ পাঠান ভারতীয় সাহায্যের প্রত্যাশায় বেনাপোল হয়ে ভারতে যান। কিন্তু ভারত থেকে আশানুরূপ সাহায্য না পাওয়ায় তাঁরা ফিরে আসেন।

৩ এপ্রিল থেকে পাকিস্তানি বাহিনী যশোরে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন অবস্থানে ব্যাপকভাবে কামানের গোলা নিক্ষেপ করতে থাকে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হন। মুক্তিযোদ্ধাদের সব কটি দল একে অন্যের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। একটি দল হাসান উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে নড়াইলের দিকে, অপর দল ঝিকরগাছার দিকে হটতে থাকে। ৬ এপ্রিল যশোরের নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে চলে যায়।

ঝিকরগাছায় পিছু হটে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্বে ছিলেন আবদুল মালেক। ১২ এপ্রিল যশোর-বেনাপোল সড়কের লাউজানিতে এবং ২৪ এপ্রিল কাগজপুকুরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে আবদুল মালেক প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেন। আবদুল মালেকের যুদ্ধে অংশগ্রহণের বিস্তারিত বিবরণ জানা যায়নি।

সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, প্রথম খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১২

সম্পাদক: মতিউর রহমান, সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান